আহমেদ বেলাল 

বরিশাল নগরের বটতলার গোড়াচাঁদ দাস রোডস্থ দৈনিক কীর্তনখোলা পত্রিকা কার্যালয়ে গত শুক্রবার ২৬ জুন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়েছে শেকড় সাহিত্য সংসদের ১২০১তম সাহিত্য আসর। সাহিত্য, ইতিহাস ও মুক্তবুদ্ধির চর্চায় নিবেদিত এই আয়োজনটি হয়ে উঠেছিল কবি-সাহিত্যিক, গবেষক ও সংস্কৃতিমনস্ক মানুষের এক প্রাণবন্ত আড্ডা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অভীজ্ঞ সাংবাদিক এম জামান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি সজিব তাওহীদ এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নব্বই দশকের খ্যাতিমান কবি আল হাফিজ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মাহবুবুল হক, কবি পথিক মোস্তফা, কবি আহমেদ বেলাল, প্রাবন্ধিক মাহমুদ ইউসুফ, কবি সাইফুল্লাহ সাইফসহ সাহিত্যপ্রেমী আরও অনেকে।

কবি পথিক মোস্তফা তার রচিত গ্রন্থ "মানুষের নাম থেকে পথিক শব্দটি বাদ দিন" থেকে নাম কবিতাটি পাঠ করেন। এছাড়াও কবি সজিব তাওহীদ, কবি আহমেদ বেলাল, কবি সাইফুল্লাহ সাইফ তাদের স্বরচিত কবিতা পাঠ করে শোনান। কবিতা পাঠ ও সাহিত্য আলোচনা ছাড়াও অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রাবন্ধিক মাহমুদ ইউসুফের গবেষণাধর্মী নিবন্ধ পাঠ। তিনি বরিশালের গৌরবময় ইতিহাসের অন্যতম রূপকার ছবি খাঁ-এর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোকপাত করেন এবং আগামীর বরিশাল বিনির্মাণে ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ অঞ্চলে জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পথিকৃৎ ছিলেন ছবি খাঁ। তাঁর উদ্যোগে নির্মিত হয় অসংখ্য রাস্তাঘাট, সেতু, সাঁকো, মসজিদ ও বিভিন্ন অবকাঠামো। সে সময় নিরাপদ পানীয় জলের তীব্র সংকট নিরসনে তিনি বহু দীঘি ও পুকুর খননের উদ্যোগ নেন। বর্তমান বরিশাল-মাদারীপুর মহাসড়কের প্রাথমিক রূপায়ণেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মাহমুদ ইউসুফ আরও বলেন, কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যের বিকাশে ছবি খাঁ যুগান্তকারী অবদান রেখেছিলেন। বর্তমান সময়ে রাষ্ট্র যেমন তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানায়, তেমনি শত শত বছর আগে বরিশাল অঞ্চলে উদ্যোক্তা তৈরির প্রথম উদ্যোগও গ্রহণ করেছিলেন এই মহৎ ব্যক্তিত্ব। তাঁর দূরদর্শী পরিকল্পনার ফলেই একসময় বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ অঞ্চল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, ঐশ্বর্য ও বাণিজ্যিক খ্যাতিতে সুপ্রসিদ্ধ হয়ে ওঠে। সমকালীন বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণবৃত্তান্তেও সেই সমৃদ্ধির উল্লেখ পাওয়া যায়। সপ্তদশ শতকে জন্ম নিয়েও তাঁর চিন্তা, পরিকল্পনা ও কর্মধারা ছিল সময়ের অনেক অগ্রবর্তী। ইতিহাসের বিচারে তিনি যেন একবিংশ শতাব্দীর একজন আধুনিক নগর পরিকল্পনাবিদ।

পরবর্তীতে অধ্যক্ষ মাহবুবুল হক তাঁর স্মৃতিচারণায় বরিশালের বিভিন্ন কীর্তিমান মানুষের কর্ম ও অবদানের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি আত্মজীবনীমূলক বিভিন্ন গ্রন্থের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, যা উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।

কবিতা, সাহিত্য, ইতিহাস ও প্রাণবন্ত আড্ডার সমন্বয়ে শেকড় সাহিত্য সংসদের ১২০১তম আসরটি এক অনন্য পরিবেশে শেষ হয়।

উল্লেখ্য, শেকড় সাহিত্য সংসদের নিয়মিত সাহিত্য আসর প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে বরিশাল নগরের বটতলার গোড়াচাঁদ দাশ রোডস্থ দৈনিক কীর্তনখোলা পত্রিকা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই আসর বরিশালের সাহিত্য-সংস্কৃতিচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

বিজ্ঞাপন
Advertisement