বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার। তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে উদাসীনতা, অসহযোগিতা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ এনে এ সংবাদ সম্মেলন করেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় জামায়াতে ইসলামীর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ১১ দলীয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মাহামুদুন্নবী তালুকদার।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগের বিষয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ফরিদপুর ইউনিয়নের গাজীতলা বাজারে আতাউর রহমানের বাসায় একটি আলোচনা সভা চলছিল। এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাইয়ুম খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর মনির, কবির সন্যামত, সাংগঠনিক সম্পাদক টিটু মল্লিক, ছাত্রদল নেতা সজীব মোল্লা, দুলাল হাওলাদার, বজলুর শিকদারসহ ২০-২৫ জন আকস্মিক হামলা চালিয়ে জামায়াতে ইসলামের কর্মী মিরাজ, মঞ্জুর ইসলাম আজাদী, রমিজ সিকদার, জসিম হাওলাদার, সাইফুল ইসলাম, কামাল হোসেন খান, জাফরুল্লাহসহ ৭-৮ জনকে মারধর করে আহত করে। একই দিনে গারুড়িয়া ইউনিয়নের দেউলি গ্রামেও হামলা চালিয়ে কর্মী সাকিবুল ইসলাম সুমনকে আহত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করেই থেমে থাকেনি। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হামলার পর স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সহায়তা চেয়েও তিনি তা পাননি। তিনি উল্লেখ করেন, পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল ইসলাম মোল্লা বিএনপির ব্যক্তি। মঙ্গলবার রাতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে সাজ্জাদুল ইসলাম মোল্লার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে জামায়াতের টাকা বিতরণের অভিযোগ তুলে অপপ্রচার চালানো হয়। সাজ্জাদ মোল্লা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেন খানের বেয়াই। সুতরাং বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বেয়াই বিএনপির পক্ষেই টাকা বিতরণ করতে পারেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচনী প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ ও পেশাদার ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।