কীর্তনখোলা রিপোর্ট
নদীবেষ্টিত বরিশাল বিভাগের ৪২টি উপজেলার মধ্যে ১৩টিকে দুর্গম উপজেলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। সরকারি নথি অনুযায়ী, বিভাগের মোট ২ হাজার ৮৩৮টি ভোটকেন্দ্রের অর্ধেকেরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ৩৪টিতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। তবে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল মহানগরীর কাশিপুর এলাকার ১২ নম্বর তিলক কলাডেমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সরেজমিনে দেখা যায়, সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ পুরোদমে চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসাতে তৎপর নির্বাচন কমিশন। এই উদ্যোগে সন্তুষ্ট ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারাও।
ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনকারী অপারেটর সাব্বির জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ছয়টি করে এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দুইটি করে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। নারী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা আকলিমা বেগম বলেন, তিনি যত নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন, তার মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে। সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাতেও ভিন্নতা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, দেশের সবচেয়ে বেশি নদীবেষ্টিত বিভাগ হলো বরিশাল। এখানে এমন বেশ কয়েকটি উপজেলা রয়েছে, যেগুলো মূল শহর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌপথ। চরাঞ্চলসহ একেবারেই দুর্গম এলাকা রয়েছে এসব উপজেলায়। বিভাগে মোট ২ হাজার ৮৩৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বিভাগীয় প্রশাসনের তথ্য বলছে, এসব কেন্দ্রের অর্ধেকের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। মাত্র ২৩৯টি কেন্দ্রে আগে থেকেই সিসি ক্যামেরা রয়েছে এবং ৩৪টি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। বিভাগের ৪২ উপজেলার মধ্যে ১৩টিকে দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় মোট ৮৩৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯৬টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২১২টি অতিঝুঁকিপূর্ণ।
বরগুনা জেলায় মোট ৩১২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৬৯টি অতিঝুঁকিপূর্ণ। পটুয়াখালী জেলায় ৫১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮০টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৩৫টি অতিঝুঁকিপূর্ণ। দ্বীপজেলা ভোলায় ৫২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৫৪টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৯৯টি অতিঝুঁকিপূর্ণ। ঝালকাঠি জেলায় ২৩৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৫০টি অতিঝুঁকিপূর্ণ এবং পিরোজপুরে ৪১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৫৬টি অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
এছাড়া বেতাগী, পাথরঘাটা, বামনা, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, কলাপাড়া, দশমিনা, চরফ্যাশন, মনপুরা, মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, মুলাদী ও কাউখালী উপজেলাকে দুর্গম উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্গম এলাকাগুলোকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে।
বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বরিশাল বিভাগকে একাধিক নিরাপত্তা স্তরে ভাগ করা হয়েছে। ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনার উপকূলীয় আসনগুলোতে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনী সর্বত্র মোতায়েন রয়েছে। দুর্গম এলাকায় ড্রোন ব্যবহার করা হবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি বিশেষ হেলিকপ্টারও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ২১টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৮ জন।