কীর্তনখোলা রিপোর্ট
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) সংসদীয় আসনের সরকারি পাতারহাট আরসি কলেজ মাঠে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের। আগামী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এ জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তবে জনসভাকে ঘিরে মাঠ ও আশপাশের চিত্র ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সরকারি পাতারহাট আরসি কলেজ মাঠ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায়, পুরো এলাকা ধানের শীষ প্রতীকসংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে।
মাঠের চারদিক এবং সমাবেশস্থলের আশপাশের সড়কজুড়ে টানানো হয়েছে বরিশাল-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী রাজিব আহসানের ছবি ও প্রতীকসংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন। প্রথম দর্শনে মনে হতে পারে, সেখানে জামায়াত নয় বরং বিএনপির কোনো সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ‘গায়ে পড়ে সংঘর্ষে জড়ানোর চেষ্টা’ হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে তারা বিষয়টিকে রাজনৈতিক শিষ্টাচার পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করছেন।
জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল-৪ আসনের মিডিয়া বিভাগের আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলাম ইউসুফ এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ন্যূনতম রাজনৈতিক শিষ্টাচার থাকলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনো রাজনৈতিক দল করতে পারে না। যেখানে একটি দলের প্রধান নেতার আগমন উপলক্ষে জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের ব্যানার-ফেস্টুন এভাবে টানানো কোন পর্যায়ের শিষ্টাচার, তা আমাদের বোধগম্য নয়।’ মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের দলীয় প্রধানের আগমন উপলক্ষে তাদের সহযোগিতা করার কথা ছিল। অথচ তারা উল্টোভাবে এখানে এসে আমাদের সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর পরিবেশ তৈরি করছে। এ ধরনের আচরণ সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক।’
এ বিষয়ে জানতে বরিশাল-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাজিব আহসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন দীপেন কীর্তনখোলাকে বলেন, ‘আমরা কোনো নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ব্যানার-ফেস্টুন লাগাইনি। সড়কের পাশে ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো আমাদের অধিকার। জামায়াতের আমিরের আগমন উপলক্ষে তারা আমাদের কাছে কোনো ধরনের সহযোগিতাও চাননি। বরং অতীতে জামায়াতের লোকজন বিএনপির ব্যানার-ফেস্টুনের ওপর নিজেদের ব্যানার লাগিয়েছে। সে সময় আমরা কোনো অভিযোগ করিনি।’