কীর্তনখোলা রিপোর্ট

দীর্ঘ অনাবৃষ্টি ও তীব্র তাপপ্রবাহের পর বৈশাখের আগাম বর্ষণে ফরিদপুর-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়কের পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ৮ নম্বর জাতীয় এই মহাসড়কটির ওপর পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্ভরশীল হলেও বর্তমানে এটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ফলে আসন্ন ঈদুল আজহার আগে-পরে বাড়ি ফেরা ও কর্মস্থলে ফিরে যাওয়া প্রায় ১০ লাখ মানুষের যাতায়াত এবং পণ্যবাহী যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিয়ে শংকিত সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরসহ পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।

 মহাসড়কটির জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার সংখ্যা ও জানমালের ক্ষতি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬০-৬৬ সালের মধ্যে মাত্র ৫ টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ও ১২ ফুট প্রশস্ত এই মহাসড়কটি নির্মিত হয়েছিল। গত ৬০ বছরেও এর কোনো পূর্ণাঙ্গ মেরামত বা আধুনিকায়ন হয়নি। ২০১৫ সালে মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত ও এডিবির অর্থায়নে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হলেও গত এক দশকে কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। ১,৮৫৪ কোটি টাকার ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্প বর্তমানে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকলেও অর্থ সংকটে বিদায়ী সরকার বরিশাল পর্যন্ত বাইপাস নির্মাণের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে কাজ আরও পিছিয়ে দেয়।

 আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ২০২২ সালে পদ্মা সেতু চালুর পর এই রুটে যানবাহনের চাপ অন্তত তিন গুণ বেড়েছে। ১২ ফুট থেকে প্রশস্ত হয়ে বর্তমানে সড়কটি ২৪ ফুট হলেও তা মূলত জোড়াতালি আর ওভার-লে দিয়ে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে আসা ৩৫-৪০ টনের বিশাল আকৃতির কন্টেইনারবাহী লং ভেহিকেলগুলো ৫ টন ধারণক্ষমতার এই জরাজীর্ণ সড়ক দিয়ে চলাচলের ফলে বিটুমিনাস কার্পেটিং দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রায় বিটুমিন গলে যাওয়া এবং সাম্প্রতিক অতি বর্ষণে সড়কটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

 ঢাকা থেকে ভাংগা পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে পাড়ি দিতে যেখানে মাত্র ৫০-৫৫ মিনিট সময় লাগে, সেখানে ৯১ কিলোমিটার দূরের বরিশাল পৌঁছাতে বর্তমানে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা সময় লাগছে। অপ্রশস্ত ও উঁচু-নিচু এই মহাসড়কে আসন্ন ঈদুল আজহায় দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি জেলা ও ৪২টি উপজেলার মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ৬ লেনে উন্নীতকরণের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ১০ বছর পার হলেও কবে নাগাদ বাস্তব কাজ শুরু হবে, তা সড়ক অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও অজ্ঞাত। দাতা প্রতিষ্ঠানের চাহিদার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন ‘পথ নকশা’, ‘প্রকল্প সারপত্র’ এবং ‘দরপত্র দলিল’ তৈরির কাজেও তেমন অগ্রগতি নেই। ফলে যথাযথ মেরামত ও সরকারি উদাসীনতায় দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্ধকার দেখছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষ।


বিজ্ঞাপন
Advertisement