কীর্তনখোলা ডেস্ক :
বিশ্বকাপের শেষ পর্বে দলগত শিরোপার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্মাননা ‘গোল্ডেন বুট’ নিয়েও থাকে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতাকে এই পুরস্কার দেওয়া হলেও একাধিক ফুটবলারের গোলসংখ্যা সমান হলে বিজয়ী নির্ধারণে ফিফা নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে।
ফিফার বিধি অনুযায়ী, শুধু গোলসংখ্যা সমান হলেই গোল্ডেন বুট যৌথভাবে দেওয়া হয় না। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বিবেচনায় আনা হয় অ্যাসিস্টের সংখ্যা। অর্থাৎ, সমান গোল করা খেলোয়াড়দের মধ্যে কে বেশি গোল করিয়েছেন, সেটিই প্রথম টাইব্রেকার। অ্যাসিস্টের হিসাব নির্ধারণ করে ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ।
যদি অ্যাসিস্টের সংখ্যাও সমান হয়, তাহলে দ্বিতীয় টাইব্রেকার হিসেবে বিবেচনা করা হয় মাঠে খেলা মোট সময়। যে খেলোয়াড় কম মিনিট খেলে সমানসংখ্যক গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন, তিনিই গোল্ডেন বুটের দাবিদার হন।
তবে গোল, অ্যাসিস্ট এবং মাঠে খেলার মোট মিনিট, এই তিনটি সূচকই যদি দুই বা ততোধিক খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে অভিন্ন হয়, তখনই কেবল ফিফা যৌথভাবে গোল্ডেন বুট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিশ্বকাপে এই পুরস্কারের যাত্রা শুরু হয় ১৯৮২ সালে ‘গোল্ডেন শু’ নামে। পরে ২০১০ সালে এর নাম পরিবর্তন করে ‘গোল্ডেন বুট’ রাখা হয়। রোনালদো নাজারিও, মিরোস্লাভ ক্লোসা, থমাস মুলার, হামেস রদ্রিগেজ এবং হ্যারি কেইনের মতো তারকারা বিভিন্ন আসরে এই সম্মান অর্জন করেছেন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র একবার যৌথভাবে গোল্ডেন বুট দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে রাশিয়ার ওলেগ সালেঙ্কো এবং বুলগেরিয়ার রিস্টো স্তইচকভ দুজনই ৬টি গোল ও ১টি করে অ্যাসিস্ট করেছিলেন। পাশাপাশি তাদের অন্যান্য পরিসংখ্যানও সমান থাকায় ফিফা সেবার দুজনকেই যৌথভাবে গোল্ডেন বুট প্রদান করে।
এ কারণে চলমান বিশ্বকাপে যদি একাধিক খেলোয়াড় সমান গোল করেন, তবে প্রথমে অ্যাসিস্ট এবং এরপর মাঠে খেলা মোট মিনিট বিবেচনা করেই ফিফা গোল্ডেন বুট বিজয়ী নির্ধারণ করবে। কেবল সব পরিসংখ্যান একেবারে সমান হলে তবেই যৌথভাবে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার দেওয়া হবে।