কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের কাউখালীতে কিস্তিতে কেনা ওয়ালটন পণ্যের বকেয়া টাকা পরিশোধ ছাড়াই উল্টো আর্থিক সহায়তা পেয়েছে এক মৃত গ্রাহকের পরিবার। ওয়ালটনের ‘কিস্তি ক্রেতা সুরক্ষা’ কর্মসূচির আওতায় এ সহায়তা প্রদান করা হয়।
বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় কাউখালী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ওয়ালটন প্লাজার কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত গ্রাহকের পরিবারের হাতে ৪৬ হাজার টাকা তুলে দেন ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাশুরী গ্রামের মো. নুরুজ্জামান তালুকদার ২৯ হাজার টাকা মূল্যের একটি ওয়ালটন মোবাইল ফোন কিস্তিতে ক্রয় করেন। তিনি জীবিত অবস্থায় ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। তবে তার কাছে ওয়ালটনের ‘কিস্তি ক্রেতা সুরক্ষা’ কার্ড থাকায় অবশিষ্ট ৪ হাজার টাকা আদায় না করে পরিবারের হাতে ৪৬ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি দেশের গ্রাহকদের জন্য এ বিশেষ সুবিধা চালু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় কোনো গ্রাহকের মৃত্যু হলে তার ক্রয়কৃত পণ্যের মূল্যের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি মৃত গ্রাহকের দাফন বা সৎকারে সহায়তা এবং পরিবারের একজন সদস্যের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া নগদ ও কিস্তিতে পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অফারের পাশাপাশি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রিসোর্ট ও সুপারশপে বিশেষ ছাড়, প্লাজাভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে টেলিমেডিসিন সেবাও প্রদান করা হচ্ছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন কর্পোরেট অফিসের কাস্টমার রিলেশন বিভাগের ইনচার্জ নাহিদ ইসলাম, বরিশাল বিভাগের ডিভিশনাল ক্রেডিট ম্যানেজার মো. আবু রায়হান এবং কাউখালী ওয়ালটন প্লাজার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো. ইয়ামিন আহম্মেদ।
অনুষ্ঠানে ওসি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। একজন গ্রাহকের মৃত্যুর পর তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
ডিভিশনাল ক্রেডিট ম্যানেজার মো. আবু রায়হান বলেন, ওয়ালটন শুধু পণ্য বিক্রিই করে না, গ্রাহক ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়েও সমান গুরুত্ব দেয়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং গ্রাহকবান্ধব সেবা আরও সম্প্রসারিত করা হবে।