কীর্তনখোলা রিপোর্ট

নগরীর আলমগীর ছাত্রাবাস সংলগ্ন এলাকায় বায়তুল মামুর মসজিদের ইমাম শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক নারীকে মোবাইল ফোনে যৌন হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগে এখন ওই ইমামের অপসারণ দাবি করছেন মুসল্লিরা। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করছে বলে জানান এলাকাবাসী। 

লিখিত অভিযুগের সূত্রে জানা গেছে, অক্সফোর্ড মিশন রোডের বাসিন্দা জনৈক মো: খলিলুর রহমানের পুত্র মো: আরিফুল ইসলাম অভিযোগ দায়ের করে বলেনÑ তার বড় বোনের ছেলে বটতলায় অবস্থিত জামিয়া মাদানিয়া হাজী ওমর শাহ মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র। অভিযুক্ত শরিফুল ওই মাদ্রাসার শিক্ষক।  একই সাথে সে সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ হোস্টেল সংলগ্ন বায়তুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। শিক্ষকতার সুবাদে মাদ্রাসা রেকর্ড বুক থেকে তার বোনের অর্থাৎ ছাত্রের মায়ের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকে মেসেজ এবং কল দিয়ে যৌন হয়রানিমূলক ইঙ্গিত প্রদান করে আসছিলেন বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন। 

অভিযোগকারী আরিফ তার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ইমাম শরিফুলের হয়রানির বিষয়টি বোনজামাই তাকে জানালে গত ৩০/১২/২০২৫ তারিখে বায়তুল মামুর মসজিদের সভাপতি সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষের নিকট তিনি অভিযোগপত্র দায়ের করেন। এতে তিনি যৌন হয়রানির জন্য শরিফুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। যার অনুলিপি একই সাথে বটতলা মাদ্রাসার পরিচালক, বটতলা মসজিদের সভাপতি এবং ওসি কোতোয়ালি থানা বরিশালে প্রেরণ করা হয়। তার অভিযোগে তিনি বিষয় উল্লেখ করেন- “চরিত্রহীন ইমামের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে।”

মসজিদের কতিপয় মুসল্লি জানান, মসজিদের সভাপতি সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ ইমামের যৌন হয়রানির বিষয়টি তদন্তের ভার মসজিদের সেক্রেটারি হাতেম আলী কলেজের অধ্যাপক আবু হানিফকে প্রদান করা হয়। তাদের অভিযোগ, সেক্রেটারি আবু হানিফ এহেন জঘন্য অভিযোগের বিষয়টি আমলে না নিয়ে ইমামের পক্ষাবলম্বন করেন এবং তাকে বাঁচিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। অবশ্য এ বিষয়ে সেক্রেটারি আবু হানিফ বলেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, অভিযোগটি তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে তদন্ত করেন। কিন্তু অভিযোগকারী ও তার পরিবারের কেউই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে সামনে আগাতে চাননি। অভিযোগকারী আরিফুল ইসলামের পিতা খলিলুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে এখন আমাদের কোনো অভিযোগ নেই, তাই এ বিষয়টি আর আগায়নি বলে জানান মসজিদের সেক্রেটারি। তবে যৌন হয়রানির অভিযোগ লিখিতভাবে দায়ের করা পরও এমন একজন ইমামকে কেন দায়িত্বে রাখা হলো, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি ষড়যন্ত্রমূলক বলে এড়িয়ে যান।

আর অভিযোগকারী আরিফুলের ইসলামের ০১৮৩৩...৩৩ মোবাইল নম্বরে ফোনে কল করে অনেক চেষ্টার পর কেউ একজন রিসিভ করে তাকে আরিফুলের ছোটো ভাই বলে পরিচয় দেন এবং বিষয়টি নিয়ে অভিযোগকারী আরিফুলের সাথেই আলাপ করা পরামর্শ দেন।  

নারী যৌন হেনস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে বটতলায় অবস্থিত জামিয়া মাদানিয়া হাজী ওমর শাহ মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি সাব্বির আহমেদ    জানান, তিনি একটি কাগজ পেয়েছিলেন, কেউ এ বিষয়ে আর কোনো প্রমাণ বা অভিযোগ নিয়ে যোগাযোগ করেননি তাই তিনি আর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। তবে তিনি আরো জানান, শরিফুলের বিরুদ্ধে কতিপয় মুসল্লি ষড়যন্ত্রমূলক এসব করিয়ে থাকতে পারে।  

 শুধু তাই নয়, ইমাম শরিফুলের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ থেকে জানা যায়Ñমুসল্লিদের সাথে অসদাচরণ, নামাজে প্রায়ই অনুপস্থিতি এবং যৌন হেনস্তার বিষয়ে কথা কাটাকাটি হলে ইমাম শরিফুল মারধর, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। যে বিষয়ে, গত ৬/১২/২০২৫ তারিখে বরিশাল কোতোয়ালি থানায় মসজিদের মুসল্লি মো: ইউনুস আলী হাওলাদার সাধারণ ডায়েরি করেন। যার নম্বর-৩৯৭। কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান জিডি কর্মকর্তা এএসআই পিনাকী শিকদারকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের নির্দেশ দেন। এমনকি এই ইমাম শরিফুলের বিরুদ্ধে বানারীপাড়া থানাও একটি মামলা রয়েছে, যার নম্বর- ৪৬৫/২০২৫। যা এখনও তদন্তাধীন বলে বানারীপাড়া থানা সূত্রে জানা গেছে।

এতসব অভিযোগের পরও, একজন ইমামের পেছনে নামাজ পড়া নিয়ে মসজিদের বেশির ভাগ মুসল্লির মধ্যে বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ ওঠা একজনকে ইমাম হিসেবে মানতে তারা নারাজ বলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই মসজিদে নামাজ আদায়কারী মুসল্লিদের একাংশ। তাদের দাবি, যেখানে ঘটনার শিকার মহিলার ভাই নিজে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সেখানে অন্য কোনো প্রমাণের কী দরকার হয়? আর পারিবারিকভাবে একটি নারীর সম্মানের বিষয়ে বেশি বাড়াবাড়ি বা জানাজানি করতে চান না বলেই এখন অভিযোগ দায়েরকারী আরিফুল ইসলাম ও তার পরিবার এড়িয়ে যেতে চান বলে মুসল্লিদের দাবি। তাই চারিত্রিকভাবে স্খলনের অভিযোগ ওঠা একজন ইমামের পেছনে তারা নামাজ পড়তে চান না বলে জোরালো অভিযোগ দায়ের করেন।    

গুরুতর এই অভিযোগে মসজিদের সহ-সভাপতি ও  ১৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মীর জাহিদ হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মসজিদের সভাপতি বরাবর ইমাম শরিফুলের অপসারণের দাবিতে মসজিদ কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এলাকাবাসী।

যৌন হয়রানি এবং এলাকাবাসী ও মুসল্লিদের অভিযোগের বিষয়ে অভিমত জানতে চাইলে ইমাম শরিফুল ইসলাম ফোন রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বারবারই ফোন কেটে দেন। তাই একাধিকবার ফোন দিয়েও তার কোনো মতামত গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। 

বিজ্ঞাপন
Advertisement