কীর্তনখোলা ডেস্ক
‘ভোটকেন্দ্র কোথায় এখনো নিশ্চিত নই। আগে তো বাসায় ভোটার স্লিপ পৌঁছে দেওয়া হতো। এবার কেউ স্লিপ দেয়নি। সাধারণত লেডি দেহলভি স্কুলেই ভোট দিয়ে থাকি। সম্ভবত সেখানেই হবে। সমস্যা নেই, সার্চ করলেই জানা যাবে’—এভাবেই কথা বলছিলেন চাঁদপুরের ভোটার সেলিনা আক্তার। এবার ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ক গণভোট—মোট দুটি ভোট প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি ভোটগ্রহণের সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত এক ঘণ্টা সময় বাড়ানো হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট শুরু হতে আর ১২ ঘণ্টারও কম সময় বাকি। গুগল ও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, ভোটের ঠিক আগে এ বিষয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সাধারণ মানুষ। যেমন: ইলেকশন ২০২৬, স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজম্যান্ট বিডি ২০২৬, ভোটার স্লিপ বিডি, ভোটার নম্বর চেক অনলাইন, ভোট সেন্টার চেক, ভোটার নম্বর বের করার নিয়ম—এ ধরনের শব্দ লিখে বুধবারও শেষ মুহূর্তে ভোটসংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়া হচ্ছে। শুধু দুইটি শব্দ বাংলায় লিখে অনুসন্ধান করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করে তথ্য খোঁজা হয়েছে। গুগল কিংবা সামাজিক মাধ্যমে মানুষ যেসব প্রশ্ন জানতে চেয়েছেন, তার কয়েকটি এবং সংশ্লিষ্ট উত্তর এখানে উপস্থাপন করা হলো।
ইলেকশন ২০২৬
গুগল সার্চের শীর্ষে রয়েছে এই শব্দটি। জাতীয় নির্বাচন ২০২৬, জাতীয় সংসদ নির্বাচন—এমন আরও কয়েকটি শব্দ দিয়ে মানুষ নির্বাচন বিষয়ক তথ্য বেশি অনুসন্ধান করেছেন। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫১টি দল। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ মোট ৫১টি দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র-তরুণ নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি এবারই প্রথমবারের মতো শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। নিবন্ধন স্থগিত থাকায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ এবার ভোটে অংশ নিতে পারছে না। নিবন্ধিত দল হলেও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না—এমন আরও কয়েকটি দল হলো জাসদ, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ প্রভৃতি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম সর্বাধিক সংখ্যক ভোটার অংশ নিচ্ছেন। ইসির প্রকাশিত আসনভিত্তিক ভোটার তালিকা অনুযায়ী, মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছয় কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার এবং নারী ভোটার ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার। এছাড়া হিজড়া ভোটার রয়েছেন এক হাজার ১২০ জন।
ভোট কখন শুরু, কখন শেষ?
বাংলাদেশে পূর্ববর্তী নির্বাচনে সাধারণত সকাল আটটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকাল চারটা পর্যন্ত চলত। তবে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট শুরু হওয়ার সময় আধা ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন।
ভোট সেন্টার
চাঁদপুরের সেলিনা আক্তারের মতো অনেক ভোটারই এবার নিজেদের ভোটকেন্দ্র নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তার মতো অনেকেই গুগলে ভোট সেন্টার চেক, ভোট সেন্টার ইত্যাদি শব্দ লিখে নিজেদের ভোটকেন্দ্র জানার চেষ্টা করছেন। গুগল ট্রেন্ড বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত একদিনে সবচেয়ে বেশি সার্চ হওয়া শব্দগুলোর একটি হলো ভোট সেন্টার চেক বিডি বা ভোট কেন্দ্র চেক। অর্থাৎ এখনো বহু ভোটার তাদের নির্ধারিত কেন্দ্র সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন অ্যাপ, হটলাইন নম্বর ও এসএমএস সেবা চালু করেছে। এছাড়া ইসির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেও ভোটাররা নিজেদের কেন্দ্র সম্পর্কে তথ্য পেতে পারেন। ওয়েবসাইটে ‘ভোট কেন্দ্র’ নামে একটি আলাদা অপশন রয়েছে। সেখানে ভোট কেন্দ্র অনুসন্ধানের জন্য দুটি তথ্য দিতে হয়—জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং জন্ম তারিখ। এই তথ্য প্রদান করে অনুসন্ধান করলে কেন্দ্রের বিস্তারিত তথ্য দেখা যায়। ভোটার নম্বর, ক্রমিক নম্বর, লিঙ্গ, কেন্দ্রের নাম এবং মানচিত্রে কেন্দ্রের অবস্থানও দেখানো হয়।
স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি ২০২৬
গুগল ট্রেন্ডের শুরুর দিকেই এই শব্দটি দেখা যাচ্ছে। মূলত স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি একটি অ্যাপ, যা ভোটারদের বিভিন্ন তথ্য জানার সুবিধার্থে নির্বাচন কমিশন চালু করেছে। এই অ্যাপে প্রবেশ করে কোনো ভোটার তার ১০ ডিজিট অথবা ১৩ ডিজিটের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে অনুসন্ধান করলেই নিজের ভোটকেন্দ্রের তথ্য পেয়ে যাবেন। এছাড়া একই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটার নম্বরও জানা সম্ভব।
ভোটার নাম্বার বের করার নিয়ম
ভোটার সিরিয়াল নম্বর চেক, ভোটার নম্বর চেক, ভোটার সিরিয়াল নম্বর বের করার নিয়ম—এ ধরনের শব্দ লিখে বহু ভোটার অনুসন্ধান করছেন। এসব তথ্য সহজে পাওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন তাদের ওয়েবসাইট, স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপ, এসএমএস সেবা ও হটলাইন নম্বর চালু রেখেছে। যেকোনো ভোটার ১০৫ নম্বরে কল করে নিজের ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানতে পারবেন। ১০৫ নম্বরে কল করার পর অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্মতারিখ জানালে ভোটার নম্বরের পাশাপাশি কেন্দ্রের নামও জানা যাবে।
ভোটার স্লিপ
গুগল ট্রেন্ডে দেখা গেছে, ভোটার স্লিপ, ভোটার স্লিপ চেক, ভোটার স্লিপ পিডিএফ ডাউনলোড ২০২৬—এ ধরনের শব্দ লিখে গত সাতদিনে অনেকেই তথ্য অনুসন্ধান করেছেন। ভোটার স্লিপ হলো এমন একটি তথ্যপত্র, যেখানে ভোটারের নামের সঙ্গে ভোটার নম্বর ও কেন্দ্রের নাম উল্লেখ থাকে। বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণত স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার, কাউন্সিলর বা প্রার্থীর পক্ষ থেকে ভোটার নম্বর ও কেন্দ্র উল্লেখ করে একটি স্লিপ বিতরণ করা হতো। তবে এই স্লিপ সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক নথি নয়। এবারে অধিকাংশ জায়গায় এমন স্লিপ বিতরণ করা হয়নি।এবার এই স্লিপ পাননি—এ তথ্য বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছিলেন মিজ আক্তার। কোনো অবস্থাতেই ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ বা ছবি তোলা যাবে না।
ভোটকেন্দ্রে সেলফি তুলতে পারবো?
অনেক ভোটার স্মৃতিচারণের জন্য ছবি তুলতে চান। বিশেষ করে যারা প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নেবেন, তারা হয়তো ছবি রাখতে আগ্রহী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমে ভোটকেন্দ্রের চারশো গজের মধ্যে মোবাইল বহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। তবে সমালোচনার পর সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে ইসি জানায়, ভোটের দিন ভোটার, প্রার্থী, এজেন্ট ও সাংবাদিকরা মোবাইল নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন এবং ছবি তুলতেও পারবেন। তবে গোপন কক্ষের ভেতরে কোনোভাবেই মোবাইল নেওয়া বা ছবি তোলা যাবে না। অর্থাৎ যে গোপন বুথে ব্যালট পেপারে ভোট দেওয়া হবে, সেখানে মোবাইল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ সীমিত রাখা হয়েছে। ফলে ভেতরে গিয়ে সেলফি তোলার সুযোগ থাকবে না।
মুখের নিকাব খুলতে হবে?
যেসব ভোটার মুখ ঢেকে পর্দা করেন, তাদের মধ্যে অনেকে ভাবছেন ভোট দিতে গেলে নিকাব খুলতে হবে কি না। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রথম পোলিং অফিসারের দায়িত্ব হলো ভোটারের মুখমণ্ডল পর্যবেক্ষণ করা। তার কাছে থাকা ভোটার তালিকার ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখে তিনি উচ্চস্বরে ভোটারের নাম ও নম্বর ঘোষণা করবেন। এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীকযুক্ত একটি ব্যালট এবং গণভোটের হ্যাঁ/না সংবলিত আরেকটি ব্যালট দিয়ে আঙুলে অমোচনীয় কালি লাগানো হবে। যদি পরিচয় গোপন করে বা ছদ্মবেশে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্বাচনী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিক সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে বিচার করবেন। এ ধরনের অপরাধে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
নির্বাচনের দিন যানবাহন চলবে কী?
রাজধানী ঢাকায় এখনো বহু ভোটার রয়েছেন যারা অন্য জেলার ভোটার হলেও ঢাকা ত্যাগ করেননি। বুধবার বিকাল কিংবা রাতে ঢাকার বাইরে যাওয়ার জন্য কোনো পরিবহন পাওয়া যাবে কি না—এ বিষয়টিও তারা গুগলে খুঁজে দেখছেন। এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে যানবাহন চলাচলে বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসির আগাম ঘোষণায় বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ভোটের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। এর ফলে মঙ্গলবার রাত থেকেই রাইড শেয়ারিং অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল সেবা বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক ও লঞ্চ চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের যানবাহন এই বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত সামগ্রী পরিবহন এবং সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে।
ভোট কেন্দ্রে বাচ্চা নেওয়া যাবে?
সন্তানের বয়স যদি প্রতীক বোঝার মতো না হয়, তাহলে যে কোনো মা ভোটার গোপন কক্ষেও সন্তানকে সঙ্গে নিতে পারবেন।কিন্তু যদি সন্তান প্রতীক বোঝার মতো বয়সী হয়, তাহলে তাকে ভোটকেন্দ্রে আনা গেলেও ভোটকক্ষে প্রবেশের সময় বাইরে রাখতে হবে।
গণভোটের ব্যালট ফেলবো কোন বাক্সে?
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দুটি ব্যালটেই ভোট দিতে হবে। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদাকালো এবং গণভোটের ব্যালট পেপার হবে গোলাপি রঙের। দুটি ব্যালট একই বাক্সে ফেলা হবে কি না—এ নিয়ে অনেক ভোটারের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা রয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন একটি পরিপত্র জারি করেছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত, নির্ধারিত ও সরবরাহকৃত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সই গণভোটের বাক্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ভোটাররা ভোট প্রদান শেষে সংসদ নির্বাচনের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট একই বাক্সে ফেলবেন।’ অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট—উভয় ব্যালটে সিল দেওয়ার পর একই বাক্সে জমা দিতে হবে।
ভোটের ফলাফল কখন জানা যাবে?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শেষে ফলাফল প্রকাশের সময় নিয়ে অনেকের প্রশ্ন রয়েছে। কারণ এবার প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা করতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে—এ কথা ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। ইসির কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষ হলে গণনা শুরু হবে। কেন্দ্র পর্যায়ে গণনা শেষে ফলাফল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে তা জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর হয়ে নির্বাচন কমিশনে পৌঁছাবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হবে। সাধারণত বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে এসব ফলাফল প্রচার করা হয়। পূর্ববর্তী সংসদ নির্বাচনে দেখা গেছে, মধ্যরাতের দিকে কোন আসনে কোন প্রার্থী এগিয়ে আছেন—এ বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। তবে এবার গণভোট একসঙ্গে গণনার কারণে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, অনানুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পেতে শুক্রবার দুপুর বা বিকাল হয়ে যেতে পারে। ফলাফল নিয়ে কোনো আপত্তি না থাকলে যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করবে, সেটিই হবে আনুষ্ঠানিক সরকারি ফল। এটি প্রকাশ হতে শনিবার কিংবা রোববার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের বিধান রয়েছে।
নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন কে?
গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের তিন দিনের মধ্যেই নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হতে পারে। ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী শপথ নিতে পারেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে, যেহেতু জাতীয় সংসদ বর্তমানে কার্যকর নেই, তাহলে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন কে? অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ৫ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগ এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর গ্রেফতারের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি মনোনীত প্রধান বিচারপতি অথবা তিন দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন। অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত শপথ আয়োজনের পক্ষে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমেই শপথ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।