বরগুনা প্রতিনিধি
বরগুনা-২ (বেতাগী, বামনা ও পাথরঘাটা) আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে একটি পোস্ট দিয়েছেন। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘প্রশাসনকে জানিয়ে দিতে চাই—পাথরঘাটায় মোড়ে মোড়ে আমাদের লোকদের আটকে দেওয়া হচ্ছে। বামনায় হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পাল্টা জবাব হলে কিন্তু কেউ দায়ী থাকবে না। ধৈর্যেরও একটা সীমা আছে।’
সূত্রে জানা গেছে, সোমবার পাথরঘাটা উপজেলায় কে এম মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোটের সমাবেশকে কেন্দ্র করে জামায়াতের নেতাকর্মীরা একের পর এক বাধার সম্মুখীন হন। এ সময় একাধিক স্থানে সহিংসতার ঘটনাও ঘটে। সহিংসতার মধ্যে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু, যিনি পাথরঘাটায় জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত সমাবেশে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনাকারী কমিটি জানায়, হামলায় গোলাম সরোয়ার হিরু গুরুতর আহত হন। ভাঙা পা নিয়েও তিনি সমাবেশে উপস্থিত হন। সূত্র আরও জানায়, সোমবার বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মোট ৪৭টি স্থানে বাধা, হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় পাথরঘাটা থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে পাথরঘাটা ও বেতাগী উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
তাদের দাবি, প্রশাসন যদি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা না নেয়, তবে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন তারা। নির্বাচনি প্রচারণার শেষ সময়ে আসনটিতে বাকবিতণ্ডা সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এসব ঘটনায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের দিনের নিরাপত্তা নিয়েই সবচেয়ে বেশি শঙ্কা প্রকাশ করছেন সাধারণ ভোটাররা। ডা. সুলতান আহমদ তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একের পর এক সহিংসতা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন, যা চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘টক অব দ্য টাউন’ হয়ে উঠেছে।