কীর্তনখোলা ডেস্ক

র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা ভিয়েতনামের বিপক্ষে জয় আশা করা বাস্তবসম্মত ছিল না। শক্তিশালী এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে হাভিয়ার কাবরেরার দল কতটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, সেটিই ছিল দেখার বিষয়। তবে প্রথমার্ধেই তিন গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। সাধারণত নিজেদের সমমান বা অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে অভ্যস্ত হামজাদের জন্য এই ম্যাচে প্রাপ্তি বলতে দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোল না খাওয়া। হ্যাং ডে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক ভিয়েতনামের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রত্যাশামতোই পুরো প্রথমার্ধে একতরফা আধিপত্য দেখিয়ে তিনবার বাংলাদেশের জালে বল জড়ায় ভিয়েতনাম। বিদেশে খেলা হামজা চৌধুরী, সমিত সোম, জায়ান আহমেদ, তারিক কাজী ও ফাহমিদুল ইসলামকে নিয়ে বাড়তি প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু শক্তিশালী ও সংগঠিত ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রথমার্ধে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়নি। মাঝমাঠে বল দখল, রক্ষণে সমন্বয় এবং আক্রমণে কার্যকারিতা—সব দিক থেকেই পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। ভিয়েতনামের প্রথম দুটি গোলই এসেছে সেট পিস থেকে। ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে স্বাগতিকদের গতিশীল আক্রমণ। ফলে ডিফেন্ডারদের বেশ বেগ পেতে হয়। ম্যাচের ৮ মিনিটে একটি সেট পিস থেকে প্রথম গোলটি করে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ১০৩ নম্বরে থাকা দলটি। সতীর্থের বাড়ানো বল থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে দেন তুয়ান হাই। ১৭ মিনিটে এনগুয়েন হোয়াংয়ের জোরালো ভলি অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন বাংলাদেশি গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ। তবে পরের মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ভিয়েতনাম। আরেকটি সেট পিস থেকে শ্রাবণকে পরাস্ত করেন দো দুই মাহন। কর্নার থেকে আসা শুয়ং তিয়েনের বাঁকানো বল হেড করে জালে পাঠান এই লেফটব্যাক। ৩১ মিনিটে নগুয়াইন হাই লংয়ের শট দারুণভাবে রুখে দেন শ্রাবণ। তবে ৭ মিনিট পর ঠিকই গোল আদায় করে নেন লং। কোনাকুনি শটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন তিনি। তাকে থামাতে গিয়ে ব্যর্থ হন তারিক কাজী ও ফাহামিদুল ইসলাম। অন্যদিকে বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে আরও কয়েকবার গোল হজমের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে ভিয়েতনামের কিছু শট পোস্টে লেগে ফিরে আসায় বড় ব্যবধানের হার এড়াতে পারে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে রক্ষণভাগের কিছুটা সংগঠিত পারফরম্যান্স ব্যবধান বাড়তে দেয়নি। পাল্টা আক্রমণে শেখ মোরসালিন বা ফয়সাল আহমেদ ফাহিমরা ভিয়েতনামের রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হন। ফলে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে ৩-০ ব্যবধানেই ম্যাচের সমাপ্তি ঘটে। ভিয়েতনামের বিপক্ষে এই প্রস্তুতি ম্যাচের পর আগামী ৩১ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে হামজারা। এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার সম্ভাবনা আগেই শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের। বাছাইপর্বে এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে কেবল ভারতের বিপক্ষেই জয় পেয়েছে দলটি। অন্য চার ম্যাচে দুটি হার ও দুটি ড্র করেছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে তাদের সংগ্রহ ৫ পয়েন্ট।

বিজ্ঞাপন
Advertisement