আহমেদ বেলাল

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ৩ নং ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির উদ্যোগে ড. ফইজুল হকের নির্বাচনী কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করা এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ৯ নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম। এতে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড সেক্রেটারি মাওলানা আ. রহিম, বাইতুল মালের দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. সুলতান গাজী, ২ নং ইউনিট সভাপতি মো. দেলোয়ার আকনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। আরও উপস্থিত ছিলেন কর্মী মো. শহিদুল ইসলাম, মো. জাকির হাওলাদার, মাওলানা মতিউর রহমান আকন, মো. আনিছুল হক খান, মো. আশ্রাব আলী হাওলাদার, মো. শাওন হাওলাদারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সমর্থকরা।

সভায় বক্তারা ড. ফইজুল হকের নির্বাচনী কার্যক্রমের সার্বিক দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় গিয়ে দলের বার্তা পৌঁছে দেওয়া, গণসংযোগ বৃদ্ধি করা এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। এ লক্ষ্যে ওয়ার্ড ও ইউনিটভিত্তিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আলোচনায় জামায়াতে ইসলামির দলীয় ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরা হয়। বক্তারা জানান, ইশতেহারে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তারা বলেন, এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই দলের মূল উদ্দেশ্য।

সভায় আরও আলোচনা হয় আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে—সে বিষয়ে দলীয় রূপরেখা নিয়ে। বক্তারা বলেন, ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক ন্যায়পরায়ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বক্তারা আগামী ১২ তারিখ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই প্রতিটি নেতাকর্মীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পাশাপাশি ভোটারদের সচেতন করতে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। সভা শেষে নেতৃবৃন্দ দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থন কামনা করেন।

বিজ্ঞাপন
Advertisement