মো. সবুজ জোমাদ্দার, ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২২ সালে প্রকাশিত জাল সনদধারী শিক্ষকদের চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকা এবং সরকারি কোষাগারে ১০ লাখ ৬১ হাজার ১০০ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার মোসলেম মাটিভাংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক (গণিত) মো. সাহার আলী গোলদারের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক দাবি করেছেন, এক সচিবের মাধ্যমে তিনি মন্ত্রণালয় থেকে নিজের নাম তালিকা থেকে বাদ করিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মোসলেম মাটিভাংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) হিসেবে কর্মরত থাকাকালে ইনডেক্স নম্বর ১০৪৮৬৯৪ধারী মো. সাহার আলী গোলদার জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি করেন। ২০১০ সালের ৮ জুন থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ১২ বছর তিনি সরকারি এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।
২০২২ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) প্রকাশিত জাল সনদধারী শিক্ষকদের চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম ৪৮৬ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত হয়। তদন্ত শেষে তাকে সরকারি কোষাগারে ১০ লাখ ৬১ হাজার ১০০ টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাহার আলী গোলদার বলেন, জাল সনদের তালিকায় আমার নাম এসেছিল। তবে এক সচিবের মাধ্যমে আমি মন্ত্রণালয় থেকে নাম মুছে ফেলেছি। তবে কোন সচিবের মাধ্যমে বা কী আইনি প্রক্রিয়ায় এটি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
মোসলেম মাটিভাংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, সাহার আলী গোলদার ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত জাল সনদ দিয়েই এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। শিক্ষা বোর্ড বা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা পেলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সাহার আলী গোলদার ‘নয়াখালী মাটিভাংগা টেকনিক্যাল স্কুল’-এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি বলেন, তার বিরুদ্ধে জাল সনদ বা সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পর্কে তারা অবগত ছিলেন না।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসিবুল হাসান বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত একজন জাল সনদধারী শিক্ষক কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সুবিধা ভোগের পরও কার্যকর শাস্তির বাইরে রয়ে গেছেন এবং কীভাবে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার দাবি করছেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিতকরণ এবং সরকারি অর্থ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।